About Me

Grow your Knowledge

  • Current affairs
  • General Knowledge
  • preparation of competitive exams

চলুন ঘুরে আসি গোপাল ভাঁড় এর বাড়ি । কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি ভ্রমণ । কৃষ্ণনগর ভ্রমণ গাইড


krishnanagar rajbari

পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় অনেক জ্ঞানীগুণী লোকেরা বসবাস করেন বা করেছেন । তাদের মধ্যে অন্যতম হলো কৃত্তিবাস ওঝা ,শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু।এই জেলার সদর শহর কৃষ্ণনগর ।মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নামানুসারে এই শহরের নাম কৃষ্ণনগর।মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র জন্মগ্রহণ করেন ১৭১০ সালে।১৭২৮-১৭৮২ অর্থাৎ প্রায় ৫৪ বছর তিনি নদীয়া জেলার তথা কৃষ্ণনগরের মহারাজা ছিলেন।মহারাজা কৃষ্ণনগরে প্রায় ৩০০ বছর আগে এক বিশালাকার রাজবাড়ী তৈরী করেন।

রাজবাড়িতে আপনি কিভাবে যাবেন এবং কি কি দেখবেন ?

শিয়ালদহ স্টেশন থেকে  কৃষ্ণনগর লোকাল ধরে আস্তে পারেন কৃষ্ণনগর স্টেশন এ ।এর পাশেই টোটো স্ট্যান্ড ।টোটোতে করে মাত্র ১০ মিনিট এ আপনি পৌঁছে যেতে পারেন রাজবাড়িতে । রাজবাড়িতে প্রবেশের আগে আপনি দেখতে পাবেন প্রায় অর্ধনগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা দুর্গের ন্যায়  প্রাচীন বাড়ি।এটি রাজবাড়ীর সিংহদরজা ।প্রাচীনকালে এই বাড়িটির চতুর্দিকে থাকতো অত্যন্ত করা প্রহরীরা ।
এখন থেকে বেরিয়ে ডান দিকে গেলে দেখতে পাবেন মুখ্য প্রবেশ দরজা ।অতীতে এই বিশাল দ্বারটি ছিল খুব সুন্দর ।কিন্তু বর্তমানে ভগ্নপ্রায় ,জরাজীর্ণ ,ইট ভেঙে গেছে ,চারিপাশে ভালো করে ঘুরলে দেখতে পাবেন প্রাচীরটিতে বট ও অশথ্ব গাছ বাসা বেঁধেছে ।মাঝে  মধ্যে বাঁদর  ও পেঁচাদের দেখা মিলতে পারে।এটি কৃষ্ণনগরের মুখ্য দরজা, মহারাজা এটিকে একসময় নদিয়ার রাজধানী শিবনিবাসে স্থানান্তর করেছিলেন।এখানে তিনটি সুন্দর উঁচু মন্দির ও প্রাসাদ তৈরী করেন।তিনি একটি শিবলিঙ্গ ও প্রতিষ্ঠা করেন । মুখ্য দরজা থেকে কিছুটা এগিয়ে আপনি দেখতে পাবেন প্রধান দরজা ।মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের বংশধরেরা এখনো এই রাজবাড়িতে থাকেন,সেইজন্য এই রাজবাড়ী সবার জন্য উন্মুক্ত নয় ,আর এখানে টিকিট  কেটে ঢোকার ও নিয়ম নেই ,বছরে মাত্র তিনবার এই দার উন্মুক্ত হয় সর্বসাধারণের জন্য ,দুর্গাপুজো ,জগদ্ধাত্রী পুজো,ও বারোদোলের মেলার সময় ।তবে শুধুমাত্র মন্দিরের চারিপাশ ঘুরে দেখার অনুমতি থাকে ।এখানে কামান,সুন্দর সাজানো বাগান, ও কিছু বিগ্রহ দেখতে পাবেন ।
বৈশাখ মাসে  বারোদোলের মেলার সময় এই রাজবাড়িটি ঘুরে দেখতে পারেন।সামনের বিশাল বড় মাঠটিতে মেলা  বসে ।এখানে কয়েকশো দোকান ও হাজারো লোকের সমাগম ঘটে। রাজবাড়ীর পিছনে গেলে দেখতে পাবেন একটি রাজদীঘি,এটি সেই রবিঠাকুরের বিখ্যাত অঞ্জনা নদী , কৃষ্ণনগরের জলঙ্গি যদি থেকে খাল কেটে এই নদীর সৃষ্টি ।এই দীঘির এক প্রান্তে একটি জরাজীর্ণ দালান রয়েছে ,এটি রাজবাড়ীর স্নানঘাট হিসাবে ব্যবহৃত হতো ।এখন এই দালানটি তে বাসা বেঁধেছে এক বৃহদাকার বট  গাছ ।অঞ্জনা নদী ,ও তার বয়ে চলার স্রোত হারিয়েছে ।এই নদীর কাছাকাছি কোনো এক গ্রামে গোপালভাঁড় থাকতেন ।সবাই জানি যে কৃষ্ণনগরের গোপালভাঁড় ,মাতিরপুতুল, জগদ্ধাত্রী পুজো,,সরপুরিয়ার সরভাজা ,জগৎবিখ্যাত ।গোপালভাঁড়ের বাড়ির এখন আর  কোনো চিহ্ন নেই ।তবে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের এই জগদ্ধাত্রী পুজো এখন কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরের বিভিন্ন স্হানে জাকজমক করে করা হয় ।প্রতিমার বেশভুষা ও স্বর্ণলঙ্কার দেখে মানুষ স্তম্ভিত হন ,পুজোর সময় প্রচুর মানুষের ভিড় জমে ।




Post a Comment

0 Comments